Skip to main content
ইপসা জাতিসংঘের ”ইকোনোমিক এন্ড সোস্যাল কাউন্সিল” এর কন্সালটেটিভ স্টাটাস প্রাপ্ত একটি সংগঠন

ইপসা’র বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন

পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকমী, যুব সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন ববস্থাপনা, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুবসমাজের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় নিয়মিত বীচ ক্লিনিং কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইপসা ও কক্সবাজারে কর্মরত যুব সংগঠনগুলোর আয়োজনে আজ সকালে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল জলতরঙ্গের সামনে সমুদ্র সৈকতে বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন।

Mayor Dr. Shahadat Hossain cleaning the Cox's Baxzar Beach as campaign by YPSA

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকত। এটা আমাদের অহংকারের বিষয়। এই সমূদ্র সৈকতকে পরিবেশ বান্ধব এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। এই লক্ষে আমাদের এই সৈকতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। আমরা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এই সমূদ্র সৈকতকে বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি Green, Healthy and Safer City গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুবসমাজকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

Group photo

আজ ১০ জানুয়ারি ২০২৬, সকালে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল জলতরঙ্গের সামনে থেকে সমুদ্র সৈকতে এই বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ইপসা’র উদ্যোগে আয়োজিত ও পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র সৈকতের প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

উক্ত বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিট‘র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো: আরিফুর রহমান। বক্তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং সকল ট্যুরিস্ট স্পটকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকা, দায়িত্বশীল পর্যটন শিল্প এবং সমুদ্র সৈকতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গণমাধ্যমকর্মীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বীচ ক্লিনিং কার্যক্রমে কক্সবাজার ১২টি যুব সংগঠনের সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সম্মিলিত উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ কেজি প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন সহযোগিতায় এবং ইপসা’র উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের যুব সংগঠন সমূহ পাশাপাশি  ১২০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন ।

এখানে উল্লেখ্য যে, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সহযেগিতায় ইপসা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে যৌথভাবে প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (পিডাব্লিউএম) প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে আসছে।পাশাপাশি পিকেএসএফ’র সহযোগিতায় স্মার্ট প্রজেক্ট এবং ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় প্ল্যাস্টিক সার্কুলারিটি প্রজেক্টসহ প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে অনেকগুলো প্রজেক্ট বাস্তবায়নাধীন ও পরিকল্পনাধীন আছে।